Nov 11, 2014

স্বপ্ন থেকে পাওয়া

 হঠাৎ করে ফোনটা বেজে উটলো, রিসিভ করতেই শুনি ভাতিজিটা আদুরে গলায় বলছে,
-আংকেল, তুমি কবে আসবা?  কতদিন ধরে তোমাকে দেখিনা।
 বললাম,
-আসব বাবা, এইতো আর কয়টা দিন যাক।
 আমার কথা শুনে ফুঁসলিয়ে কাঁদছে মেয়েটা। বলে,
-এভাবে বলে বলেই তো ছয়টা মাস কাঁটিয়ে দিয়েছো।
-কি করব মা, কাজের প্রচন্ড চাপ, ইচ্ছে করলেও আটকে যাই। তবে এইবার ঠিক আসবই।

পাহাড়ের ঢালে খনিতে ব্রাস্টিং এর কাজ করছে একদল বিদেশী শ্রমিক, খনির অদুরেই কোম্পানি কোয়ার্টার, ওখানেই থাকেন বড় ভাইয়া ভাবি আর বাচ্চা ক'টাকে নিয়ে। গুধুলীর প্রায় শেষ অবদি, আবছা একটা আলো নেমে এসেছে খনি এলাকায়, আমি কাঁচা রাস্তাটা ধরে হেটে যাচ্ছি বাসার দিকে, অনেকদিন পর এসেছি এই এলাকায়, অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। দূরে খনির অপারে কয়টা ছোট মেয়ে খনির কাজ দেখছে। আমিও ওদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আপন মনে হাটছি, আমার দিকে তাকিয়ে একটা মেয়ে হাত নাড়াচ্ছে। আমি ঠিক চিনতে পেরেছি, আমার ভাতিজিটা আমাকে দেখে ফেলেছে। কিন্তু খনির ব্রাস্টিংয়ের শব্দে ওর ডাক শুনতে পাচ্ছিলাম না। চাচ্চু, চাচ্চু বলে চিৎকার করে আমায় ডাকছে। বললাম দাড়া মা, আমি আসতেছি। ওদিকে বাসা থেকে ওর মা ওকে পিছন থেকে ডাকছে। ওখানে দাড়িয়ে খনির কাজ দেখাটা নিরাপদ নয় তাই। আর মাত্র ৮০-৯০ গজ দূরে ওর আর আমার দূরত্ব। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে একটা ডিনামাইট ফুটলো। চোখের পলকেই  চুনাপাথরের একটা নুড়ি আঘাত করলো ওর পেটের বাম পাশে। আমি পাগলের মত দৌড় দিলাম ওকে ধরতে, পিছন থেকে সে তার মায়ের দিকে না এগিয়ে, হাসতে হাসতে আমার দিকে এগিয়ে আসছে, এতবড় একটা আঘাতও  ম্লান হয়ে গেলো আমাকে দেখার খুশিতে। আমি দৌড়ে গিয়ে তাকে ঝাপ্টে ধরে কোলে তোলে নিলাম। ধর ধর করে পেটের ওপাশ থেকে রক্ত ঝরছে। হাত দিয়ে চেপে ধরে, সোজা হাসপাতালের দিকে ছুটলাম। ও তখনো আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বলতেছে “আংকেল, তুমি এতদিন পরে আসলে, তোমাকে দেখে আমার অনেক খুশি লাগছে”।

বিঃ দ্রঃ- উপরের সম্পুর্ন লেখাটিই স্বপ্ন থেকে পাওয়া। বাস্তব কোন ঘটনার সাথে এর কোন মিল নেই। তবে এই স্বপ্নটা দেখে সারাটা দিন আমার ভয়ংকর রকম খারাপ কেটেছে। বার বার আমার ফুটফুটে ভাতিজিগুলোর কথা মনে হয়েছে। এমন কোন ঘটনা যেন বাস্তবে না ঘটে। সেটাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা।


বাউন্ডুলে আতিক
১৯-০১-২০১৩
ফেসবুক নোট