Dec 2, 2014

নাগরিক পল্লীবালা

জোৎস্না ও তোর মাঝে আমি অমিল খুজি,
যখন তোর মুখে অবারিত হাসি,
তখন জোৎস্নায় প্লাবিত হয় তোদের নগর,
আমাদের পল্লী, হেসে উঠে এই অনাদিকালের জনপদ,
বসন্ত আসে নগরে গ্রামে,
মরা কার্তিকে আসে বোশেখী ঝড়,
রুপালী আলোর নাচ উঠে কালিদহের জল চিরে,
হেসে উঠি এই আমি তোর মুখ পানে চেয়ে।

তুইতো নাগরিক পল্লীবালা,
ইট কাঠের অষ্ট দেয়াল পেরিয়ে তুই একটুখানি সবুজ খুজিস,
এক ফোটা বৃষ্টির আশায় চাতকের মত চেয়ে থাকিস,
নিয়ন আলোর ভিরে এক চিলতে জোৎস্না খুজিস,
তুই কি জানসনা,
তোর হাসিই তো জোৎস্না হয়ে ছড়িয়ে পরে এই নগরে,
এই আম কাঠালের সবুজ বনে,
এই জারুল বনে চাঁপার বনে।

আমিও আজ চাঁপার বনে হারিয়ে গেছি,
কলমী লতায় জড়িয়ে গেছি,
কৃঞ্চচূরায় লাল হয়েছি,
চন্দ্রালোকে পথ ভুলে যাই অচিন পুরে,
আমার অষ্ট প্রহর নষ্ট করি তোকে ভেবে,
বিষাদের কাল মেঘ উড়ে এসে জুড়ে বসে,
ধুয়াটে জোৎস্নায় একলা কাটে আমার প্রহর,
এই কি তবে জল জোৎস্না ?
এই কি তবে রুপালী নদীর বৈঠা চলাৎ চলাৎ ?

এইতো তোদের নগর জীবন,
নিয়ন সোডিয়ামের হিংস্র থাবায় জোৎস্নার পলায়ন,
এইতো বিষাদ !
এই নগর এই পল্লী এই চিরচেনা মেটোপথ,
এই কাঠালী বাগান এই হিজল করচ আজ জোয় ভাসবেনা,
এই কালিদহের বুকে মাছরাঁঙ্গা আসবেনা,
ঐ জয়ন্তিকাও হয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকবেনা,
তুইকি হাসবিনা ?
আমায় ভালবাসবিনা ?
তুই না হাসলে এ ধরা আজ জোৎস্নায় ভাসবেনা।


বাউন্ডুলে আতিক
মার্চ, ৩১, ২০১০