May 11, 2014

হাওর বাওরের দেশে



আমার এখনো মনে আছে কালিদহের বুকে একদিন নৌকা বেয়েছিলাম তোমায় নিয়ে। পাড়ি দিয়েছিলাম শালুকের দেশ, হিজল বন আর কলমির লতানো ঝোপ। নল খাগরা আর করচের ফাকে দেখেছি কত পদ্মের হাসি। ঠিক তুমি যেমন করে হাসো । একটা ডাহুকের বাসা দেখে তুমি চিত্‍কার করে বলেছিলে "ওম্মা, কত সুন্দর!" আমি বলেছিলাম আরো একটা সুন্দর দেখ উত্তরে তাকাও দেখ, সুবিশাল সবুজ মেঘালয়, যার প্রতিবিম্ব পড়েছে কালিদহের জলে, তোমার চোখ জুড়িয়ে যাবে কোন এক অজানা প্রশান্তির চোঁয়ায়। অদ্ভুত পৃথিবী ভরিয়ে দেবে তোমায় অদ্ভুত মমতায়।

একটা অচেনা ফুল তুলতে গিয়ে কাটা বিধেছিল তোমার হাতে, কোমল হাতে খোচা মেরে স্বাগত জানিয়েছিল এই হাওর বাওরের দেশে। তুমি পাহাড় দেখে বলেছিলে পাহাড়ে চড়ার। ছোট নৌকাটা ঘুরিয়ে দিলাম শ্যামল মেঘালয় পানে। যতই কাছে যেতে থাকি পাহাড়টা ততই দূরে সরে যায়। বিকেলের তীর্যক আলো পড়েছিল হাওরের জলে। সূর্য্য ডুবার অন্তিম দৃশ্যটুকু দেখার অপেক্ষায় রইলাম। ডানা ঝাপটায় পানকৌড়ি আর বালিহাস, সূদুর সাইবেরিয়া থেকে ধেয়ে আসা অতিথি পাখির সাই সাই শব্দে মুখরিত জলজ জনপদ। তুমিও আজ ওদের মতই অতিথি এই জলের দেশে। তোমাকে দেখে হাসছে দেখ শাপলা শালুক, গাইছে দেখ বুনোহাস আর ডাহুক পাখি। যতদূর চোখ যায় দেখি আকাশটা যেন ডুবে গেছে বাওরের জলে।


বেলা যায় গোধুলী নামে বহু দূর গ্রামের টিম টিমে বাতিগুলো জ্বলে উঠে ধীরে। ভুতুরে সন্ধ্যা নেমে আসে আমাদের হাওর জনপদে। ইচ্ছে ছিল জলের বুকে তোমায় জোত্‍স্না দেখাবার। তুমি ফিরে যাবার কথা বলেছিলে তাই হলনা দেখা জোত্‍স্নার সাথে জলের মাখামাখি, হলনা আঁকা বাওরের জলে জোত্‍স্নার জলচাপ। আমরা ফিরছি ঘরে পেছনে রেখে পদ্ম কানন আর অতিথি পাখির ঘ্রান। ওরা ভালবাসে এই জলকে এই শালুক ফুলের ঘ্রানকে, আমার মতই যেমন তোমায় ভালবাসি, ভালবাসি তোমার গায়ের ঘ্রানকে। তোমার শাড়ির আচলের মতই ধীরে ধীরে হাজারো নক্ষত্রে শোভিত হচ্ছে রাতের আকাশ। জল দুলে দক্ষীনা হাওয়ায় ঢেউ উঠে মুদু, তোমার হাসির মতই মৃদু শিহরন উঠে এই মনে।

বাউন্ডুলে আতিক/080211 ফেসবুক নোট